Loading...

  • 26 Jul, 2026

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিটই সচল, উৎপাদন বেড়ে ১৭৯ মেগাওয়াট

কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচ ইউনিটই সচল, উৎপাদন বেড়ে ১৭৯ মেগাওয়াট

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ এবং উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের (কপাবিকে) পাঁচটি উৎপাদন ইউনিটই বর্তমানে সচল রয়েছে। পানির পর্যাপ্ত প্রবাহ থাকায় কেন্দ্রটির বিদ্যুৎ উৎপাদনও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে বর্তমানে ১৭৯ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র (কপাবিকে) সূত্রে জানা গেছে, শুষ্ক মৌসুমে পানির স্বল্পতার কারণে চলতি বছরের জুন মাস পর্যন্ত কেন্দ্রটির মাত্র একটি বা দুটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছিল। তবে টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলের কারণে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দ্রুত বাড়তে থাকায় গত ৭ জুলাই সন্ধ্যা ৬টা থেকে কেন্দ্রটির পাঁচটি ইউনিট একযোগে চালু করা হয়। ওই দিন পাঁচটি ইউনিট থেকে মোট ১৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে কপাবিকের ব্যবস্থাপক (প্রকৌশল) মাহমুদ হাসান জানান, গত সাত দিনের টানা বৃষ্টিতে উজান থেকে বিপুল পরিমাণ পানি কাপ্তাই হ্রদে এসে জমা হয়েছে। এর ফলে পানিনির্ভর এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সব ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কেন্দ্রটি থেকে মোট ১৭৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে ১ ও ২ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৪২ মেগাওয়াট করে মোট ৮৪ মেগাওয়াট, ৩ নম্বর ইউনিট থেকে ৩৫ মেগাওয়াট এবং ৪ ও ৫ নম্বর ইউনিট থেকে প্রতিটিতে ৩০ মেগাওয়াট করে মোট ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে। সব মিলিয়ে কেন্দ্রটির মোট উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১৭৯ মেগাওয়াট। যদিও কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা ২৪০ মেগাওয়াট।

এদিকে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ৯০ দশমিক ৩১ ফুট (মিন সি লেভেল)। অথচ রুল কার্ভ অনুযায়ী এ সময় হ্রদের পানির স্বাভাবিক স্তর থাকার কথা ছিল ৮৫ দশমিক ৪৪ ফুট। অর্থাৎ নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় পানির উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট বেশি রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানিধারণ ক্ষমতা ১০৮ ফুট (মিন সি লেভেল)। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকে এবং উজান থেকে আরও পানি নেমে আসে, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদন আরও বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে একই সঙ্গে হ্রদের পানির স্তর নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে, যাতে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা যায়।

দেশের একমাত্র জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র হিসেবে কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্ষা মৌসুমে পানির প্রবাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, যা জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।