Loading...

  • 10 Jun, 2026

ইসরায়েলের দুই বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

ইসরায়েলের দুই বিমানঘাঁটিতে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন সংঘাতের শঙ্কা

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইসরায়েলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামরিক বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। সোমবার (৮ জুন) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, ইসরায়েলের নেভাতিম এবং তেল নোফ বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা পরিচালনা করা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি, হামলাটি সাম্প্রতিক সময়েই সংঘটিত হয়েছে এবং এটি ইসরায়েলের ধারাবাহিক সামরিক অভিযানের জবাব হিসেবে চালানো হয়েছে। আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, ইরানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার প্রতিক্রিয়ায় এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান অঞ্চলের কয়েকটি সামরিক ও প্রযুক্তিগত স্থাপনা লক্ষ্য করে ইসরায়েল হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তেহরান। একই সঙ্গে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলেও ইসরায়েলি বিমান হামলার ঘটনা উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে। ইরানের দাবি, তাদের রাডার ব্যবস্থা এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর ওপর হামলার জবাব হিসেবেই ইসরায়েলের সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। আইআরজিসি একে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটি বলছে, বিদেশি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা এবং প্রতিপক্ষকে শক্ত বার্তা দেওয়ার উদ্দেশ্যেই এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ইরান থেকে একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। হামলার পরপরই দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং জনগণকে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। তবে হামলার ফলে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এখনও প্রকাশ করা হয়নি। এ পর্যন্ত বড় ধরনের প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া না গেলেও পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। তাদের মতে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাত আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করলে পুরো মধ্যপ্রাচ্য নতুন নিরাপত্তা সংকটে পড়তে পারে। বিশেষ করে লেবানন, সিরিয়া, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোও এর প্রভাবের বাইরে থাকবে না। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহল সংঘাত নিয়ন্ত্রণে সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দুই পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক এই পাল্টাপাল্টি হামলা মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। দীর্ঘদিন ধরে চলমান বৈরিতার মধ্যে নতুন করে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বিশেষ করে সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলার ঘটনা উভয় দেশের মধ্যে উত্তেজনার মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নজর এখন ইরান ও ইসরায়েলের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। যদি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়, তাহলে এই সংঘাত আরও বড় আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি বাজার এবং বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপরও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়তে পারে।
Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy