ফিফা বিশ্বকাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে শনিবার (২০ জুন) হাইতির মুখোমুখি হবে ব্রাজিল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এই ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদেরই স্পষ্ট ফেবারিট হিসেবে দেখছে পরিসংখ্যানভিত্তিক বিশ্লেষণ। আধুনিক সুপার কম্পিউটারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ম্যাচটিতে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা অত্যন্ত বেশি।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের ড্র করে কিছুটা চাপে পড়েছে ব্রাজিল। ফলে গ্রুপ পর্বে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে হাইতির বিপক্ষে জয় ছাড়া অন্য কিছু ভাবছে না সেলেসাওরা।
ইতিহাসও ব্রাজিলের পক্ষেই কথা বলছে। ১৯৭৮ সালের পর কোনো বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচে জয়হীন থাকার অভিজ্ঞতা নেই ব্রাজিলের। তাই সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখার লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে দক্ষিণ আমেরিকার পরাশক্তিরা।
ফিফা র্যাঙ্কিংয়েও দুই দলের মধ্যে রয়েছে বিশাল ব্যবধান। বর্তমানে র্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে রয়েছে Brazil national football team, আর Haiti national football team অবস্থান করছে ৮৪ নম্বরে। দুই দলের মধ্যে ব্যবধান ৭৮ ধাপ।
পরিসংখ্যানভিত্তিক পূর্বাভাস প্রতিষ্ঠান অপটার সুপার কম্পিউটারের হিসাব অনুযায়ী, ম্যাচে ব্রাজিলের জয়ের সম্ভাবনা ৮৭.৩ শতাংশ। অন্যদিকে হাইতির জয়ের সম্ভাবনা মাত্র ৪.৩ শতাংশ। ড্র হওয়ার সম্ভাবনা ধরা হয়েছে ৮.৪ শতাংশ।
প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট হারালেও ব্রাজিলের নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা এখনও বেশ শক্তিশালী। অপটার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গ্রুপ ‘সি’-তে শীর্ষস্থান অর্জনের সম্ভাবনা ব্রাজিলের ৫২ শতাংশ। শেষ ৩২-এ জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনা ৯০.৩ শতাংশ। এছাড়া শিরোপা জয়ের সম্ভাবনাও ৫.৪ শতাংশ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে পরাজিত হওয়ায় হাইতির সামনে কঠিন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দলটির নকআউট পর্বে ওঠার সম্ভাবনা মাত্র ৫.৮ শতাংশ। আর গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সম্ভাবনা নেমে এসেছে ০.৪ শতাংশে।
অতীত পরিসংখ্যানও ব্রাজিলের আধিপত্যের গল্প বলে। দুই দল এর আগে তিনবার মুখোমুখি হয়েছে এবং প্রতিবারই জয় পেয়েছে ব্রাজিল। এই তিন ম্যাচে সেলেসাওরা মোট ১৭টি গোল করেছে, বিপরীতে হাইতির গোল মাত্র একটি।
সবচেয়ে বড় জয়টি আসে ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকায়, যখন ব্রাজিল ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হাইতিকে পরাজিত করেছিল। সেই স্মৃতি এবং বর্তমান শক্তির তুলনায় এবারও ব্রাজিলকে এগিয়ে রাখছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা।
তবে ফুটবলে পরিসংখ্যান সবসময় শেষ কথা নয়। মাঠের পারফরম্যান্সই শেষ পর্যন্ত ফল নির্ধারণ করবে। তবুও সুপার কম্পিউটার, ফিফা র্যাঙ্কিং এবং অতীত রেকর্ড—সব দিক থেকেই এই ম্যাচে ব্রাজিলই পরিষ্কার ফেবারিট।