রোববার (৭ জুন) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত সদর উপজেলার নাটাই উত্তর ইউনিয়নের থলিয়ারা গ্রামে এ সংঘর্ষ চলে। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সংঘর্ষে জড়িত অনেকের গায়ে লাইফ জ্যাকেট, মাথায় হেলমেট, ক্যাপ ও গামছা ছিল। তারা রামদা, বল্লম, টেঁটাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, থলিয়ারা গ্রামের ভূঁইয়া বাড়ির পুকুরপাড়ে শিরু মিয়ার একটি চায়ের দোকান রয়েছে। দোকানটিতে নিয়মিত টেলিভিশন চালানো হতো এবং সেখানে মানুষের ভিড় জমত। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা অভিযোগ ও বিরোধের সৃষ্টি হয়। একই সময়ে গ্রামের দুটি পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলছিল। চায়ের দোকান উচ্ছেদের বিষয়টি সেই বিরোধকে আরও উসকে দেয়।
সম্প্রতি একটি গ্রামীণ সালিশে দোকানটি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এক পক্ষ সেই সিদ্ধান্ত মেনে নেয়নি। এর জেরে রোববার সকালে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে তা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
সংঘর্ষ চলাকালে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, ইটপাটকেল নিক্ষেপ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাও ঘটে। কয়েকটি বাড়িঘর ও দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সংঘর্ষের একপর্যায়ে তা গ্রাম ছাড়িয়ে নাটাই-অষ্টগ্রাম আঞ্চলিক সড়কে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সংঘর্ষে টেঁটাবিদ্ধসহ অন্তত ২০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
নাটাই উত্তর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ইয়াকুব আলী ভূইয়া বলেন, সালিশে দোকান উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত হলেও একটি পক্ষ তা মানতে অস্বীকৃতি জানায়। পরবর্তীতে উভয়পক্ষ প্রস্তুতি নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
মো. শহিদুল ইসলাম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি, জানান যে পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে এলাকায় এখনও উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজনকে আটক করা হয়েছে।