বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সচিবালয়ের গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হক এবং সঞ্চালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “কোনোভাবেই আমাকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বন্ধু হিসেবে উপস্থাপন করবেন না। আমি বিএনপির একজন সাধারণ কর্মী। প্রধানমন্ত্রী আমাকে ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, জানেন— এটুকুই আমাদের সম্পর্ক।”
তিনি দাবি করেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি ও তার পরিবার নানা ধরনের নির্যাতন ও প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন। ক্ষমতায় আসার পরও পরিবারকে বিভিন্ন সমালোচনার মুখে পড়তে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, যোগ্যতার ভিত্তিতে পরিবারের কেউ দায়িত্ব পেলে সেটিকে অযথা বিতর্কিত করা উচিত নয়।
বগুড়ার রাজনীতির প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত থাকার কারণে এবং বগুড়ায় সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করায় তারেক রহমানের সঙ্গে একাধিকবার দেখা ও মতবিনিময়ের সুযোগ হয়েছে। তবে সেই সম্পর্ককে বন্ধুত্ব হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।
নিজ মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম সম্পর্কে তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে সমন্বয় ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে কাজ চলছে। গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো মন্ত্রীর অনুমোদনের মাধ্যমেই নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। নির্বাচন কমিশনও প্রাথমিক প্রস্তুতি শুরু করেছে। সরকারের লক্ষ্য অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন করা।
সংলাপে নিজের ছেলের বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক হওয়া নিয়ে ওঠা সমালোচনারও জবাব দেন তিনি। মীর শাহে আলম বলেন, বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ার পর তিনি নিজেই ছেলেকে পদত্যাগের পরামর্শ দেন এবং প্রথম বোর্ড সভার পরদিনই তিনি পদত্যাগ করেন।
সম্পদের বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তার নির্বাচনী হলফনামায় সব সম্পদের তথ্য উল্লেখ রয়েছে। ব্যক্তি নামে নয়, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের নামে শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার জন্য জমি কেনা হয়েছে এবং এসব সম্পদের অর্থের উৎস বৈধ। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি তদন্ত করতে পারে বলেও জানান তিনি।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে মীর শাহে আলম বলেন, কোনো ব্যক্তিকে দুর্নীতিগ্রস্ত বা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত হিসেবে উপস্থাপনের আগে তথ্য যাচাই করা উচিত। পাশাপাশি বক্তব্যের আংশিক নয়, পূর্ণাঙ্গ অংশ প্রকাশেরও আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, তার কোনো ভুল বা অনিয়ম নজরে এলে সংবাদ প্রকাশের পাশাপাশি তাকে অবহিত করলে প্রয়োজনীয় সংশোধনের সুযোগ থাকবে। গণমাধ্যমের গঠনমূলক সমালোচনা সরকারের কাজকে আরও কার্যকর করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী।