বুধবার (২৭ মে) হাসপাতালের পোস্টডেলিভারি ওয়ার্ড পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার পরপরই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা হাসপাতালে ছুটে যান। পরিদর্শনের সময় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. জাহিদ রায়হান উপস্থিত ছিলেন। তারা হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পোস্টঅপারেটিভ ওয়ার্ডের পরিবেশ, বায়ু চলাচল ব্যবস্থা এবং চিকিৎসা কার্যক্রম পর্যালোচনা করেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এসি–সংক্রান্ত জটিলতা বা ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার ত্রুটির কারণে ওয়ার্ডটিতে শ্বাসরুদ্ধকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমরা দেখেছি, এসিটি এমনভাবে স্থাপন করা হয়েছিল যে এটি বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে বিকল্প কোনো ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা ছিল না। ফলে কক্ষে অক্সিজেনস্বল্পতা বা দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।”
জানা গেছে, ওই কক্ষে মোট ১১ জন মা ও তাঁদের নবজাতক ছিলেন। এর মধ্যে ছয়জন নবজাতকের বয়স ছিল মাত্র এক থেকে তিন দিন। বাকি পাঁচটি নবজাতক বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিল। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জন্মগত জটিলতার কারণে তারা বিশেষ পর্যবেক্ষণে ছিল।
তদন্ত কমিটিতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল উইংয়ের একজন উপপরিচালক পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং আরেকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে রাখা হয়েছে। তদন্তে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, চিকিৎসা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং কক্ষের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত ছিল কি না—এসব বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হবে।
অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বলেন, “বিশেষ করে এসির গ্যাসলাইন, যান্ত্রিক ত্রুটি কিংবা কারিগরি ব্যর্থতার বিষয়গুলো বিশদভাবে পরীক্ষা করা হবে। প্রয়োজনে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞদেরও তদন্তে যুক্ত করা হবে।” তিনি আরও জানান, যদি কোনো অবহেলা, দায়িত্বে গাফিলতি বা অবকাঠামোগত ত্রুটি পাওয়া যায়, তাহলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ বিরাজ করছে। নিহত নবজাতকদের পরিবারের সদস্যরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। অনেকে অভিযোগ করেছেন, হাসপাতালের কক্ষে পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল ব্যবস্থা ছিল না এবং গভীর রাতে পরিস্থিতি খারাপ হলেও দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
পুলিশও ঘটনাটি তদন্ত করছে। রমনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, এসির গ্যাসলাইনে লিকেজ বা অন্য কোনো যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সুনির্দিষ্টভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
স্বাস্থ্য খাতসংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা ও পোস্টডেলিভারি ইউনিটে যথাযথ ভেন্টিলেশন, অক্সিজেন সরবরাহ এবং জরুরি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এমন ঘটনায় দেশের হাসপাতালগুলোর নিরাপত্তা মান ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।