Loading...

  • 23 Oct, 2026
সর্বশেষ

যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

যানজট কমাতে বৃত্তাকার সড়কের নির্মাণকাজ দ্রুত শেষের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা কমাতে প্রস্তাবিত অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক বা ইনার সার্কুলার রিং রোড প্রকল্পের নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় আয়োজিত এক সভায় তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর নির্দেশ দেন।

প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা

রোববার (৪ অক্টোবর) বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকার অভ্যন্তরীণ বৃত্তাকার সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নের বর্তমান অবস্থা, বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা এবং নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার উপায় নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব হাসান শিপলুর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্প বাস্তবায়নে যেসব প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত দূর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজ শেষ করার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সময়সীমা নির্ধারণ এবং প্রকল্পে দ্রুত দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার বিষয়েও নির্দেশনা দেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে কাজের নির্দেশ

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রকল্পের বিদ্যমান পরিকল্পনা পর্যালোচনা করতে বলা হয়েছে। পরিকল্পনার কোথায় সমস্যা বা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, তা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের মাধ্যমে নির্মাণকাজের গতি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মধ্যে অন্যতম হলো—প্রকল্পের কাজ যেন শুধু পরিকল্পনা বা আলোচনার পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করা। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি থাকলে তা দূর করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রায় ৮৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণ

ঢাকার বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পের আওতায় রাজধানীর বিভিন্ন প্রান্তকে সংযুক্ত করে প্রায় ৮৯ কিলোমিটার সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রকল্পের একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে ধউর, বিরুলিয়া, গাবতলী, বছিলা, হাজারীবাগ, সোয়ারীঘাট, কদমতলী, তেঘরিয়া, পোস্তা, ফতুল্লা, চাষাড়া ও শিমরাইল হয়ে ডেমরা পর্যন্ত যাবে।

অন্য একটি অংশ আব্দুল্লাহপুর রেলগেট থেকে তেরমুখ, পূর্বাচল ও বেরাইদ হয়ে ডেমরায় যুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীর চারপাশে একটি বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা তৈরি হবে। বর্তমানে রায়েরবাজার, হাজারীবাগ ও কামরাঙ্গীরচর অংশে নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

যানজট কমানোর লক্ষ্য

রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। নগরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে যানবাহনের চাপ কমানো এবং এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যাতায়াতের বিকল্প পথ তৈরি করাই বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পের অন্যতম উদ্দেশ্য।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রাজধানীর ভেতরের ব্যস্ত সড়ক ব্যবহার না করেও এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে। এতে শহরের অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোর ওপর যানবাহনের চাপ কমানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। প্রকল্পটির দ্রুত বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পেছনে ঢাকার যানজট নিরসনের বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

বৈঠকে যারা উপস্থিত ছিলেন

অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

বৈঠকে প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমস্যা দ্রুত চিহ্নিত ও সমাধান, সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধি এবং বাস্তবসম্মত সময়সীমার মধ্যে কাজ শেষ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায়। পাশাপাশি নির্মাণকাজের দৃশ্যমান অগ্রগতি নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর যানজট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উদ্যোগগুলোর মধ্যে বৃত্তাকার সড়ক প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ। এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে সমন্বিতভাবে পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে নির্মাণকাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পর প্রকল্পের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় গতি বাড়ানোর বিষয়টিই সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য হিসেবে সামনে এসেছে।