Loading...

  • 24 Jun, 2026

সংসদে সবাই পেলেন সমান উপহার, স্পিকার থেকে ঝাড়ুদার পর্যন্ত ১০ কেজি আম পাঠালেন ড. শফিকুর রহমান

সংসদে সবাই পেলেন সমান উপহার, স্পিকার থেকে ঝাড়ুদার পর্যন্ত ১০ কেজি আম পাঠালেন ড. শফিকুর রহমান

জাতীয় সংসদে এক ব্যতিক্রমী উপহার বিতরণ কর্মসূচি আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ড. শফিকুর রহমান সংসদের স্পিকার, মন্ত্রী, সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বিশেষ উপহার পাঠিয়েছেন। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই উপহার বিতরণে কোনো পদমর্যাদাভিত্তিক বৈষম্য রাখা হয়নি। সংসদের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে অফিস সহায়ক, লিফটম্যান, পিয়ন, গাড়িচালক এবং পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাও একই ধরনের উপহার পেয়েছেন।

সোমবার (২২ জুন) জাতীয় সংসদ ভবনের বিভিন্ন দপ্তরে এসব উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়। সংসদ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রতিটি প্যাকেটে ১০ কেজি করে উন্নতমানের মৌসুমি আম ছিল। বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ের প্রতিনিধিরা সংসদ ভবনের বিভিন্ন শাখা ও দপ্তরে গিয়ে সুশৃঙ্খলভাবে উপহার বিতরণ করেন।

সকালের দিকে সংসদ ভবনের করিডোরে বড় বড় প্যাকেট দেখে অনেকের মধ্যেই কৌতূহল তৈরি হয়। পরে জানা যায়, সেগুলো ড. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো আমের প্যাকেট। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।

সংসদীয় অঙ্গনে সাধারণত বিভিন্ন উপলক্ষে উপহার বিনিময়ের রীতি থাকলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেসব উপহার উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু এবারের উদ্যোগে সংসদ সচিবালয়ের প্রতিটি স্তরের কর্মীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে বিষয়টি সংসদ ভবনের ভেতরে একটি ব্যতিক্রমী উদ্যোগ হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।

সংসদ সচিবালয়ের একাধিক কর্মচারী জানিয়েছেন, তারা সাধারণত বড় রাজনৈতিক নেতাদের পাঠানো উপহার সরাসরি পান না। তবে এবার তাদের নামও তালিকাভুক্ত করা হয়েছে এবং সমান গুরুত্ব দিয়ে উপহার পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। একজন অফিস সহায়ক বলেন, সংসদের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তিদের পাশাপাশি তাদের মতো কর্মচারীদের কথাও মনে রাখা হয়েছে, যা তাদের কাছে সম্মানের বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন উদ্যোগ শুধু সৌজন্য প্রদর্শনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি প্রতিষ্ঠানভিত্তিক কর্মপরিবেশে সমতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের একটি বার্তাও বহন করে। কোনো প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনায় উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা থেকে শুরু করে নিম্নস্তরের কর্মচারী পর্যন্ত সবার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ—এই উপলব্ধির প্রতিফলন হিসেবেও বিষয়টি দেখা যেতে পারে।

সংসদ ভবনে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘদিনের চাকরি জীবনে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের সৌজন্য উপহার বিতরণ হতে দেখেছেন। তবে একইসঙ্গে সব স্তরের কর্মচারীদের অন্তর্ভুক্ত করে এমন উপহার বিতরণ খুব বেশি দেখা যায় না। ফলে বিষয়টি অনেকের কাছেই ইতিবাচক উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এদিকে রাজনৈতিক অঙ্গনেও এই উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, রাজনৈতিক ভিন্নমত থাকলেও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সবার প্রতি সম্মান প্রদর্শন গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির অংশ। বিশেষ করে জাতীয় সংসদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি এই ধরনের সৌজন্যমূলক আচরণ পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

ড. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে পাঠানো এই উপহার সংসদ ভবনের দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও ভিন্নমাত্রার আলোচনা তৈরি করেছে। বিশেষ করে পদমর্যাদার ভেদাভেদ না করে সবার জন্য সমান উপহার দেওয়ার বিষয়টি সংসদ সচিবালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রশংসিত হয়েছে।

পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজনৈতিক অঙ্গনে সৌজন্য ও পারস্পরিক সম্মানবোধের সংস্কৃতি আরও বিস্তৃত হলে তা ইতিবাচক রাজনৈতিক পরিবেশ গঠনে সহায়ক হতে পারে। সংসদে এই উপহার বিতরণের ঘটনাকে অনেকেই সেই ধরনের একটি প্রতীকী উদ্যোগ হিসেবেই দেখছেন।

**ট্যাগ:**
ড. শফিকুর রহমান, জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় সংসদ, বিরোধীদলীয় নেতা, সংসদ সচিবালয়, উপহার বিতরণ, মৌসুমি আম, সংসদ সদস্য, স্পিকার, বাংলাদেশ রাজনীতি, সৌজন্য উপহার, সংসদ ভবন, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক সংস্কৃতি, সংসদ সংবাদ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy