মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কাছে ২-১ গোলে হারের পর রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের কোচ হোসে মরিনহো। ম্যাচে রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে সংবাদ সম্মেলনে সেগুলোর ব্যাখ্যাও দেন তিনি। তবে মরিনহোর অভিযোগের পাল্টা তর্কে না গিয়ে কোচদের বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন অ্যাতলেতিকো মাদ্রিদের কোচ ডিয়েগো সিমিওনে।
মাদ্রিদ ডার্বিতে দুই দলের লড়াই বরাবরই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে। এবারও ম্যাচের ফলের পাশাপাশি রেফারির কয়েকটি সিদ্ধান্ত নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত অ্যাতলেতিকো ২-১ গোলে রিয়াল মাদ্রিদকে হারায়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর রিয়াল কোচ মরিনহো সংবাদ সম্মেলনে রেফারিং নিয়ে নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
রেফারির সিদ্ধান্তের সমালোচনা করতে গিয়ে মরিনহো সংবাদ সম্মেলনে ম্যাচের কিছু ঘটনা দেখানোর প্রস্তুতি নিয়েই হাজির হন। তিনি ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, অ্যাতলেতিকোর দুই খেলোয়াড় লাল কার্ড পাওয়ার মতো অপরাধ করেছিলেন। তাঁর বক্তব্যে বোঝা যায়, ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্তগুলোই তিনি আলোচনার মূল বিষয় হিসেবে সামনে আনতে চেয়েছিলেন।
মরিনহো বলেন, সংবাদ সম্মেলন না করলেও চলে, কারণ ম্যাচের মূল কাহিনি ওই ছবিগুলোতেই দেখা যাচ্ছে। এরপর তিনি অ্যাতলেতিকোর দুই খেলোয়াড়ের লাল কার্ড পাওয়ার মতো পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করেন। তাঁর বক্তব্য ছিল, যদি রিয়াল মাদ্রিদ ৯ জনের বিপরীতে ১১ জন নিয়ে খেলতে পারত, তাহলে ম্যাচের পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত।
রিয়াল কোচের এমন বক্তব্যের পর স্বাভাবিকভাবেই আলোচনায় আসে দুই কোচের মধ্যে সম্ভাব্য কথার লড়াই। তবে মরিনহোর বক্তব্যের সরাসরি পাল্টা জবাব দেননি অ্যাতলেতিকো কোচ ডিয়েগো সিমিওনে। বরং তিনি কোচদের প্রকাশ্য বক্তব্যে দায়িত্বশীল ও সংযত থাকার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
সিমিওনের বার্তা
সিমিওনে বলেন, কে কথা বলছেন সেটি বড় বিষয় নয়। তিনি নিজে, মরিনহো, হান্সি ফ্লিক কিংবা ম্যানুয়েল পেল্লেগ্রিনি—যে কেউই হোন না কেন, প্রকাশ্যে কথা বলার সময় সতর্ক থাকা উচিত। তাঁর বক্তব্যে মূলত প্রতিদ্বন্দ্বী কোচদের মধ্যে পারস্পরিক সম্মান বজায় রাখার বিষয়টি উঠে আসে।
অ্যাতলেতিকো কোচের ভাষায়, একজন কোচের পরিচয় বা অবস্থান যাই হোক না কেন, কথা বলার সময় সম্মানের সীমা অতিক্রম করা উচিত নয়। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, কেউই সেই সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারেন না।
সিমিওনের এই মন্তব্যকে মরিনহোর বক্তব্যের সরাসরি পাল্টা আক্রমণ হিসেবে না দেখে কোচদের আচরণ ও বক্তব্যের ক্ষেত্রে একটি সাধারণ সতর্কবার্তা হিসেবেই উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি মরিনহোর উত্থাপিত নির্দিষ্ট রেফারিং সিদ্ধান্ত নিয়ে বিস্তারিত বিতর্কে যাননি। ফলে ম্যাচের রেফারিং নিয়ে মরিনহোর অভিযোগ এবং কোচদের বক্তব্যের সীমা নিয়ে সিমিওনের মন্তব্য—দুটি বিষয় আলাদাভাবেই আলোচনায় এসেছে।
ম্যাচের বিতর্ক
মাদ্রিদ ডার্বিতে রিয়াল মাদ্রিদের ২-১ গোলে পরাজয়ের পর রেফারিং নিয়ে বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। মরিনহো সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা তুলে ধরে রেফারির সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বিশেষ করে অ্যাতলেতিকোর দুই খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়নি—এ বিষয়টি তাঁর বক্তব্যে গুরুত্ব পায়।
রিয়াল কোচের মতে, ওই সিদ্ধান্তগুলো ম্যাচের গতিপথে প্রভাব ফেলতে পারত। তাই তিনি সংবাদ সম্মেলনে ছবি ব্যবহার করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যের কেন্দ্রবিন্দু ছিল রেফারির সিদ্ধান্ত এবং ম্যাচে খেলোয়াড় সংখ্যার সম্ভাব্য পার্থক্য।
অন্যদিকে সিমিওনে রেফারিংয়ের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রকাশ্যে পাল্টা যুক্তি দেওয়ার পরিবর্তে কোচদের দায়িত্বশীল বক্তব্যের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও ব্যক্তিগত বা অসম্মানজনক পর্যায়ে না যাওয়ার বার্তা স্পষ্ট ছিল।
ফলে মাদ্রিদ ডার্বির ফলাফল ২-১ হলেও ম্যাচের পর আলোচনার বড় অংশজুড়ে রয়েছে রেফারিং নিয়ে মরিনহোর অভিযোগ এবং তার জবাবে সিমিওনের সতর্ক অবস্থান। মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা শেষ হওয়ার পর দুই কোচের বক্তব্যও ফুটবল অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।