রাজধানীর অন্যতম বিনোদন ও দর্শনীয় স্থান হাতিরঝিলের নিরাপত্তা জোরদারে আনসার সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। হাতিরঝিলে ছিনতাই ও নিরাপত্তা-সংক্রান্ত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (২০ জুন) সকালে হাতিরঝিলে চলমান পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাতিরঝিলে আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) পক্ষ থেকে আনসার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, “হাতিরঝিলে ছিনতাইয়ের অভিযোগ রয়েছে। দর্শনার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ কারণে রাজউকের মাধ্যমে এখানে আনসার মোতায়েন করা হবে।”
মীর শাহে আলম আরও জানান, হাতিরঝিলকে দ্রুত আগের সৌন্দর্য ও পরিবেশে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের সমন্বয়ে এলাকাটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এদিকে হাতিরঝিলের আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধন নিয়ে কাজের অগ্রগতির বিষয়ে কথা বলেন রাজউক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম। তিনি জানান, হাতিরঝিলের পরিবেশ উন্নয়ন এবং দর্শনার্থীদের জন্য আরও মনোরম পরিবেশ নিশ্চিত করতে নতুন করে আলোকসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, “হাতিরঝিলের পরিচ্ছন্নতার কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে। এ বিষয়ে এক সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জনবল নিয়োগ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই কাজ সম্পন্ন করা হবে।”
তিনি আরও জানান, হাতিরঝিলের পানিদূষণ রোধে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সুয়ারেজ লাইন থেকে বর্জ্য নির্গমন এবং পানিতে ভাসমান ময়লা অপসারণে ইতোমধ্যে কাজ শুরু হয়েছে। জলাশয়ের পরিবেশ রক্ষা এবং পানির মান উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
দীর্ঘদিন ধরে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এই জলাধার ও বিনোদনকেন্দ্রটি পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা এবং অব্যবস্থাপনার নানা অভিযোগের মুখে ছিল। সাম্প্রতিক উদ্যোগের ফলে হাতিরঝিলের পরিবেশ ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে হাতিরঝিলে আগত দর্শনার্থীরা আরও নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন বলে মনে করা হচ্ছে।