দিনাজপুরের বিরামপুর উপজেলায় এক উপসহকারী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে ঠিকাদারের কাছ থেকে ঘুষ চাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কথিত ঘুষ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
ভাইরাল হওয়া প্রায় দেড় মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, এক ব্যক্তি প্রকৌশলী হামিদুল ইসলামের সঙ্গে অর্থ লেনদেন নিয়ে কথা বলছেন। ভিডিওতে ওই ব্যক্তিকে বলতে শোনা যায়, “কয় টাকা নেবেন?” জবাবে হামিদুল ইসলাম “১০ হাজার টাকা” দাবি করেছেন বলে ভিডিওতে শোনা যায়। পরে ওই ব্যক্তি এক হাজার টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিলে প্রথমে তিনি তা প্রত্যাখ্যান করেন।
ভিডিওর আরেক অংশে প্রকল্প পরিদর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রকৌশলীকে পাঁচ হাজার টাকা দাবি করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। সেখানে তিনি বলেন, “দুই দিন তো করিনি, আজকে করলাম তোমার জন্য।” তবে টাকা নিয়ে দর-কষাকষির এক পর্যায়ে তিনি অর্থ গ্রহণ না করেই সরে যেতে চান বলেও ভিডিওতে দেখা যায়।
ভিডিওটির শেষাংশে ঠিকাদারপক্ষের একজনকে প্রকৌশলীর পকেটে কয়েকটি এক হাজার টাকার নোট ঢুকিয়ে দিতে দেখা যায়। এই দৃশ্য প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং স্থানীয় পর্যায়ে নানা প্রশ্নের জন্ম দেয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৪ নম্বর দিওড় ইউনিয়নের শোলাহার গ্রামে এডিবির অর্থায়নে নির্মিত ২৭৫ মিটার সিসি সড়ক প্রকল্প পরিদর্শনের সময় ঘটনাটি ঘটে। ঈদের আগেই প্রকল্পটির নির্মাণকাজ শেষ হয়। সেই সময় ধারণ করা ভিডিও পরবর্তীতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করা হলে উপসহকারী প্রকৌশলী হামিদুল ইসলাম অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি দাবি করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিকৃত করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভিডিওতে যে কথোপকথন দেখানো হয়েছে তা বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
হামিদুল ইসলাম বলেন, “আমি যদি ১০ হাজার টাকা দাবি করি, তাহলে এক হাজার টাকায় কেন রাজি হব? আমি কি এক হাজার টাকা নেওয়ার প্লেয়ার? পুরো বিষয়টি সাজানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত করা হয়েছে।”
এদিকে বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকেও প্রতিক্রিয়া এসেছে। বিরামপুর উপজেলা প্রকৌশলী আতাউর রহমান জানান, ঘটনাটি তার নজরে এসেছে এবং এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করা হবে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত কর্মকর্তার কাছ থেকে ব্যাখ্যাও চাওয়া হবে।
তিনি বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর ঠিকাদার কিংবা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তদন্ত করা হবে এবং তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। ভিডিওটির সত্যতা, ঘটনার প্রেক্ষাপট এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। তদন্ত শেষে অভিযোগ প্রমাণিত হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ঘটনাটি নতুন করে সরকারি প্রকল্প তদারকি, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা নিয়ে প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওর সত্যতা যাচাইয়ের বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এখন তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর স্থানীয়দের।