ক্ষমতার অপব্যবহার করে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তাঁর ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবীর এ আদেশ দেন। আদালতে শুনানি শেষে দুজনকেই পুনরায় কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর এই আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে শাজাহান খান ও আসিবুর রহমানকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা দুদকের সহকারী পরিচালক মাহাথীর মুহাম্মদ সামীর গত ৭ সেপ্টেম্বর তাদের গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেছিলেন।
মামলায় যে অভিযোগ
দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আসিবুর রহমানের নামে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়। অনুসন্ধানে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকা। এ হিসাবে তাঁর নামে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ও অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, শাজাহান খান সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থের মাধ্যমে ছেলে আসিবুর রহমানের নামে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২ ফেব্রুয়ারি দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মণ্ডল বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
আদালতের পরবর্তী কার্যক্রম
মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য আগে ৫ অক্টোবর তারিখ নির্ধারিত ছিল। তবে নির্ধারিত দিনে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুদক। পরে আগামী ২৫ নভেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের জামিন আবেদনের শুনানি আগামী ১৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে দুদকের আনা অভিযোগ এখনো আদালতে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। মামলার তদন্ত ও পরবর্তী বিচারিক কার্যক্রমের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারিত হবে। আসামিপক্ষ অভিযোগগুলো সঠিক নয় বলে দাবি করেছে।