রবীন্দ্র সরোবরের আদলে রাজধানীর ধানমন্ডি লেকের পাশে ‘নজরুল সরোবর’ নামে একটি আধুনিক উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম এ তথ্য জানিয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ধানমন্ডি লেক ও এর আশপাশের এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নাগরিকদের জন্য বিনোদন ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করা হবে।
ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, ধানমন্ডি লেকের তলদেশ পরিষ্কারের কাজ শেষ হওয়ার পরপরই পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করা হবে। এসব কাজের মধ্যে রয়েছে লেকের পানি শোধন, সাইডওয়াল সংস্কার, ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ। একই সঙ্গে লেকের আশপাশের এলাকায় সৌন্দর্যবর্ধন এবং প্রয়োজনীয় লাইটিংয়ের কাজও করা হবে।
লেক উন্নয়নে একাধিক উদ্যোগ
ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনায় শুধু জলাশয়কেন্দ্রিক কাজ নয়, এর সঙ্গে আশপাশের অবকাঠামো উন্নয়নের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। লেকের সাইডওয়াল সংস্কারের মাধ্যমে এর কাঠামোগত উন্নয়ন করা হবে। পাশাপাশি নাগরিকদের হাঁটাচলার সুবিধার জন্য ওয়াকওয়ে আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
লেকের পানি শোধনের মাধ্যমে জলাশয়ের পরিবেশ উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে। তলদেশ পরিষ্কার করার পর পানি শোধনের কাজ শুরু করা হবে বলে জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। একই সঙ্গে লেক ও এর আশপাশে পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করার মাধ্যমে পুরো এলাকাকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শিশুদের জন্য থাকবে বিনোদনের ব্যবস্থা
‘নজরুল সরোবর’ পরিকল্পনায় শিশুদের বিনোদনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। শিশুদের জন্য স্পিডবোটের সুযোগ রাখার কথা জানিয়েছেন ডিএসসিসি প্রশাসক। এর মাধ্যমে ধানমন্ডি লেককে শুধু হাঁটাচলা বা অবসর কাটানোর স্থান হিসেবে নয়, বরং বিভিন্ন বয়সী মানুষের বিনোদনের উপযোগী একটি উন্মুক্ত স্থান হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
ধানমন্ডি এলাকার অবকাঠামো উন্নয়ন
লেককেন্দ্রিক উন্নয়নের পাশাপাশি পুরো ধানমন্ডি এলাকার রাস্তা, ফুটপাত এবং অন্যান্য অবকাঠামো সাজানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে লেকের আশপাশের যোগাযোগব্যবস্থা ও নাগরিক সুবিধার উন্নয়ন ঘটানোর পাশাপাশি পুরো এলাকার পরিবেশকে আরও গোছানো করার পরিকল্পনা রয়েছে।
ডিএসসিসির পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে ধানমন্ডি লেকের পাশে ‘নজরুল সরোবর’ একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক ও বিনোদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। রবীন্দ্র সরোবরের মতো একটি উন্মুক্ত সাংস্কৃতিক পরিবেশ তৈরির এই উদ্যোগে লেকের পানি, ওয়াকওয়ে, সাইডওয়াল, লাইটিং, সৌন্দর্যবর্ধন এবং আশপাশের সড়ক-ফুটপাত উন্নয়নের বিষয়গুলোকে একসঙ্গে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন ও কাজের বিস্তারিত সময়সূচি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরবর্তী কার্যক্রমের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।