Loading...

  • 24 Jun, 2026

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে ১৫ জনকে পুশইনের চেষ্টা, বিজিবির তৎপরতায় ব্যর্থ বিএসএফ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে ১৫ জন নারী, পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর (পুশইন) চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে সীমান্তে দায়িত্ব পালনরত বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপের কারণে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির কঠোর নজরদারি এবং তাৎক্ষণিক প্রতিরোধের মুখে বিএসএফ শেষ পর্যন্ত ওই ব্যক্তিদের পুনরায় ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।

বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (১২ জুন) দিবাগত রাত পৌনে ১টার দিকে গোমস্তাপুর উপজেলার রাধানগর ইউনিয়নের ২২০ নম্বর আন্তর্জাতিক সীমান্ত পিলারসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সীমান্তবর্তী নদীপথ ব্যবহার করে শিশু ও নারীদেরসহ মোট ১৫ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। বিষয়টি নজরে আসার সঙ্গে সঙ্গে রোকনপুর বিওপির বিজিবি সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে অবস্থান নেন এবং সীমান্তে অতিরিক্ত সতর্কতা জারি করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ভারতীয় ৮৮ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের কোটালপুর ক্যাম্পের সদস্যরা একটি নৌকার মাধ্যমে ওই ব্যক্তিদের বাংলাদেশের দিকে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়। তবে বিজিবির টহল দল সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত নজরদারিতে থাকায় বিষয়টি দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হয়। বিজিবির সক্রিয় অবস্থানের কারণে ওই ব্যক্তিরা বাংলাদেশ ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে পারেননি।

ঘটনার পর কিছু সময়ের জন্য ওই ১৫ জনকে দুই দেশের মধ্যবর্তী শূন্যরেখা এলাকায় অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং বিজিবির কড়া অবস্থানের মুখে বিএসএফ রাত প্রায় পৌনে ৩টার দিকে তাদের আবার ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। ফলে সম্ভাব্য একটি অবৈধ অনুপ্রবেশের ঘটনা প্রতিহত করা সম্ভব হয়।

নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্তে সার্বক্ষণিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ, পুশইন কিংবা সীমান্তসংক্রান্ত অপতৎপরতা প্রতিরোধে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে। তিনি আরও বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবি সব সময় পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়ে আসছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় পুশইনের অভিযোগ বেড়েছে। বিশেষ করে নারী, শিশু এবং শ্রমজীবী মানুষদের লক্ষ্য করে এ ধরনের ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ রয়েছে। সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দারাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং সীমান্তে আরও কঠোর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, এর আগেও একই সীমান্ত এলাকায় অনুরূপ ঘটনা ঘটেছিল। গত ৪ জুন রোকনপুর সীমান্ত দিয়ে আরও ২৮ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। তখনও বিজিবির তাৎক্ষণিক হস্তক্ষেপের কারণে সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি সীমান্ত নিরাপত্তা ও মানবিক পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সীমান্ত সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক সীমান্তে পুশইন একটি সংবেদনশীল বিষয়। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই যেকোনো ধরনের সীমান্তসংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার নীতি এবং দ্বিপক্ষীয় সমঝোতার ভিত্তিতে পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।

এদিকে বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্তে যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের সদস্যরা প্রস্তুত রয়েছে এবং দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগ:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ, গোমস্তাপুর, রোকনপুর সীমান্ত, বিজিবি, বিএসএফ, পুশইন, সীমান্ত নিরাপত্তা, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত, অবৈধ অনুপ্রবেশ, রাধানগর ইউনিয়ন, সীমান্ত খবর, বাংলাদেশ সংবাদ, নারী ও শিশু, আন্তর্জাতিক সীমান্ত, বিজিবি অভিযান, সীমান্ত উত্তেজনা, নওগাঁ ১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়ন, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক, সীমান্ত টহল, জাতীয় সংবাদ

Your experience on this site will be improved by allowing cookies Cookie Policy