দেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও ডা. শফিকুর রহমান। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে সরকার রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে একদলীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার পথে এগোচ্ছে।
শুক্রবার (১৯ জুন) সকালে নারায়ণগঞ্জের মাসদাইর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত এক কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তার অভিযোগ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক কাঠামোতে দলীয়করণের প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে যোগ্য ব্যক্তিদের পরিবর্তে সরকার-সমর্থিত ব্যক্তিদের দায়িত্বে বসানো হচ্ছে এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতেও দলীয় বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে দেশে একটি দলীয় বা একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য শুভ নয়।
ইতিহাসের প্রসঙ্গ টেনে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতীতে বাংলাদেশে একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ সফল হয়নি। তার মতে, দেশের জনগণ বহুদলীয় গণতন্ত্রে বিশ্বাস করে এবং একদলীয় রাজনৈতিক সংস্কৃতি গ্রহণ করবে না।
বিরোধী রাজনীতির পরিবেশ নিয়েও মন্তব্য করেন জামায়াত আমির। তিনি বলেন, অতীতে সংসদে বিরোধী দলকে অবমূল্যায়ন ও তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করার যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি চালু হয়েছিল, তা গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর ছিল। একই ধরনের রাজনৈতিক ভাষা ও আচরণ বর্তমানেও দেখা যাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বড় বাজেট ঘোষণা করাই যথেষ্ট নয়, এর কার্যকর ও স্বচ্ছ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের অর্থের অপচয়, দুর্নীতি ও অর্থপাচার বন্ধে সরকারকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, দুর্নীতি, ঘুষ এবং চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে জনগণের আস্থা অর্জন করা সম্ভব হবে না। তার দাবি, এসব অনিয়ম বন্ধে দৃশ্যমান পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবদানকে খাটো করে দেখা উচিত নয়। তাদের ত্যাগ ও সংগ্রামের ফলেই বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নারায়ণগঞ্জের ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে জামায়াত আমির বলেন, নানা প্রতিকূলতা ও রাজনৈতিক চাপের মধ্যেও তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছেন। এজন্য তিনি স্থানীয় জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, গণতন্ত্র, নির্বাচন ও প্রশাসনিক সংস্কার নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরেন।